Oku no Hosomichi
অভ্যন্তরগামী সংকীর্ন পথ এবং অন্যান্য রচনা: দ্য এসেনসিয়াল বাশো (১৯৯৮)
Narrow Road to the Interior and Other Writings. trans. Sam Hamill
মূল: মাৎসুও বাশো (১৬৪৪-১৬৯৪)
ইংরেজি অনুবাদ: স্যাম হ্যামিল
বাংলা ভাবানুবাদ: ম হাসান
চন্দ্র এবং সূর্য দুই চিরায়ত পরিব্রাজক। এমনকি বছরও এগিয়ে চলে। জীবন যেনো ভেসে চলা একটি নৌকো, অথবা একটি পরিভ্রমণে ক্লান্ত ঘোড়া, প্রতিটি দিন এক ভ্রমণ আর সেই ভ্রমনই এক গৃহ। সেই প্রাচীন কাল থেকে কতো না পথিক হারিয়ে গেছে পথে পথে। তবু হাওয়ায় উড়িয়ে নেওয়া মেঘেরা সর্বদা আমায় টেনে নিতে চায় জীবনব্যাপি এক ভ্রমনের স্বপ্নে। এইতো গত হেমন্তে উপকূলে এক বছরব্যাপি বিচরণ শেষে গৃহে প্রত্যাবর্তনের পর, সুমিদার তীরে আমার কুঁড়েঘরের মাকড়সার ঝুল পরিষ্কার করেছিলাম আসন্ন নতুন বছর উপলক্ষে, কিন্তু বসন্তের কুয়াশা ক্ষেত থেকে ওঠা শুরু হতে না হতেই আমি শিরাকাওয়া বাঁধ পেরিয়ে উত্তরের অভ্যন্তরে যাত্রার জন্যে উন্মুখ হয়ে উঠলাম। ভ্রমনকারী দ'সজিন* এর আত্মা যেনো ভর করলো আমায়, আমি মনসংযোগ করতে পারছিলাম না কিছুতেই। আমার সুতি পাজামায় তালি মেরে, বাঁশের টুপিটায় একটা নতুন বাঁধুনি লাগিয়ে, আমি দিবাস্বপ্ন দেখতে লাগলাম। মোক্সা* ঘষে ঘষে পা দু'টোকে শক্ত করে, আমি স্বপ্ন দেখলাম এক উজ্জ্বল চাঁদ যেনো উদিত হচ্ছে মাৎসুশিমার উপরে। তাই আমি অন্য আরেক জনের হাতে আমার ঘরের দায়িত্ব দিয়ে চলে গেলাম জনাব স্যাম্পের গ্রীস্মকালীন আবাসে আমার যাত্রার প্রস্তুতি হিসেবে। এবং এই চরণগুলো রেখে গেলাম আমার দরজায়:
এমনকি এই ঘাসের কুঁড়েঘর
রুপান্তরিত হবে-
এক পুতুলের ঘরে।
*দ'সজিন: জনপ্রিয় শিন্টো 'কামি' বা 'আত্মা' যা পথিককে অশুভ আত্মার হাত থেকে রক্ষা করে বলে পূজিত হয়। অনেক সময় একজোড়া সুখী বিবাহিত দম্পতির মূর্তি হিসেবে স্থাপিত হয়ে থাকে।
* মোক্সা: চীন,জাপান, কোরিয়ায় ইত্যাদি দেশে ব্যবহৃত এক রকম ঐতিহ্যবাহী ভেষজ ঔষধী।
অভ্যন্তরগামী সংকীর্ন পথ এবং অন্যান্য রচনা: দ্য এসেনসিয়াল বাশো (১৯৯৮)
Narrow Road to the Interior and Other Writings. trans. Sam Hamill
মূল: মাৎসুও বাশো (১৬৪৪-১৬৯৪)
ইংরেজি অনুবাদ: স্যাম হ্যামিল
বাংলা ভাবানুবাদ: ম হাসান
চন্দ্র এবং সূর্য দুই চিরায়ত পরিব্রাজক। এমনকি বছরও এগিয়ে চলে। জীবন যেনো ভেসে চলা একটি নৌকো, অথবা একটি পরিভ্রমণে ক্লান্ত ঘোড়া, প্রতিটি দিন এক ভ্রমণ আর সেই ভ্রমনই এক গৃহ। সেই প্রাচীন কাল থেকে কতো না পথিক হারিয়ে গেছে পথে পথে। তবু হাওয়ায় উড়িয়ে নেওয়া মেঘেরা সর্বদা আমায় টেনে নিতে চায় জীবনব্যাপি এক ভ্রমনের স্বপ্নে। এইতো গত হেমন্তে উপকূলে এক বছরব্যাপি বিচরণ শেষে গৃহে প্রত্যাবর্তনের পর, সুমিদার তীরে আমার কুঁড়েঘরের মাকড়সার ঝুল পরিষ্কার করেছিলাম আসন্ন নতুন বছর উপলক্ষে, কিন্তু বসন্তের কুয়াশা ক্ষেত থেকে ওঠা শুরু হতে না হতেই আমি শিরাকাওয়া বাঁধ পেরিয়ে উত্তরের অভ্যন্তরে যাত্রার জন্যে উন্মুখ হয়ে উঠলাম। ভ্রমনকারী দ'সজিন* এর আত্মা যেনো ভর করলো আমায়, আমি মনসংযোগ করতে পারছিলাম না কিছুতেই। আমার সুতি পাজামায় তালি মেরে, বাঁশের টুপিটায় একটা নতুন বাঁধুনি লাগিয়ে, আমি দিবাস্বপ্ন দেখতে লাগলাম। মোক্সা* ঘষে ঘষে পা দু'টোকে শক্ত করে, আমি স্বপ্ন দেখলাম এক উজ্জ্বল চাঁদ যেনো উদিত হচ্ছে মাৎসুশিমার উপরে। তাই আমি অন্য আরেক জনের হাতে আমার ঘরের দায়িত্ব দিয়ে চলে গেলাম জনাব স্যাম্পের গ্রীস্মকালীন আবাসে আমার যাত্রার প্রস্তুতি হিসেবে। এবং এই চরণগুলো রেখে গেলাম আমার দরজায়:
এমনকি এই ঘাসের কুঁড়েঘর
রুপান্তরিত হবে-
এক পুতুলের ঘরে।
*দ'সজিন: জনপ্রিয় শিন্টো 'কামি' বা 'আত্মা' যা পথিককে অশুভ আত্মার হাত থেকে রক্ষা করে বলে পূজিত হয়। অনেক সময় একজোড়া সুখী বিবাহিত দম্পতির মূর্তি হিসেবে স্থাপিত হয়ে থাকে।
* মোক্সা: চীন,জাপান, কোরিয়ায় ইত্যাদি দেশে ব্যবহৃত এক রকম ঐতিহ্যবাহী ভেষজ ঔষধী।
অসাধারণ! অসাধারণ!
ReplyDeleteধন্যবাদ মুজিব ভাই। এটা শুধু সূচনা। আমি পড়ে দারুণ অনুপ্রাণিত।দেখি কিস্তিতে কিস্তিতে অনুবাদ চালিয়ে যেতে পারি কিনা।
ReplyDelete